মাইক্রোসফটের নতুন ফ্ল্যাগশিপ: লুমিয়া ৯৫০ ও ৯৫০ এক্সএল

সম্প্রতি মাইক্রোসফট অবমুক্ত করেছে তাদের লুমিয়া সিরিজের সর্বশেষ দুটি ফ্লাগশিপ স্মার্টফোন লুমিয়া ৯৫০ এবং ৯৫০ এক্সএল। স্মার্টফোন ব্যাবসায় ক্রমশ পিছিয়ে পড়া মাইক্রোসফট প্রাণপণ চেষ্টা করছে ঘুরে দাঁড়াতে। আর সে চেষ্টারই আরেকটি ফসল মাইক্রোসফটের সর্বশেষ অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ ১০ চালিত স্মার্টফোন দুটি। গুগলের অ্যান্ড্রয়েড ওপারেটিং সিস্টেম চালিত ডিভাইসগুলোর সাথে লড়তে স্মার্টফোন দুটিতে কী কী ধরনের ফিচারের সন্নিবেশ ঘটিয়েছে মাইক্রোসফট? চলুন এক নজরে দেখে নিই কী কী আছে স্মার্টফোন দুটিতে।

ডিসপ্লে: স্মার্টফোন যুগলের প্রথম ডিভাইস লুমিয়া ৯৫০ তে আছে ২৫৬০x১৪৪০ পিক্সেল সমৃদ্ধ ৫.২ ইঞ্চি অ্যামোলেড ডিসপ্লে। ডিসপ্লের শার্পনেস এবং ক্লিয়ারিটি নিশ্চিত করতে মাইক্রোসফট ৫৬৪ পিপিআই সমৃদ্ধ ডিসপ্লের সন্নিবেশ ঘটিয়েছে ডিভাইসটিতে। অপরদিকে আকৃতিতে বড় লুমিয়া ৯৫০ এক্সএল ডিভাইসটিতে আছে ৫.৭ ইঞ্চি আইপিএস ডিসপ্লে যার রেজুলেশনও প্রথম ডিভাইসটির মত একই ২৫৬০x১৪৪০ পিক্সে। ডিসপ্লেটির পিক্সেল ডেনসিটি ৫১৮ পিপিআই।

ডিজাইন:  বর্তমান সময়ে স্মার্ট ডিভাইসের ক্ষেত্রে অন্যতম বিবেচনার বিষয় হলো ডিভাইসটির ডিজাইন। সেদিক দিয়ে বললে মাইক্রোসফটের ডিভাইস দুইটি একদিক দিয়ে প্রশংসাও পেতে পারে আবার আরেকদিক দিয়ে সমালোচনার স্বীকারও হতে পারে। ডিভাইসটির ডিসপ্লেতে ব্যাবহার করা হয়েছে গরিলা গ্লাস এর চতুর্থ ভার্সন। ডিভাইসটির বাকি অংশ পলিকার্বোনেটের তৈরি যেটাই মূলত স্বাচ্ছন্দের অথবা অস্বস্তির কারণ হতে পারে। আর পেছনের ক্যামেরা ইউনিটটি ব্যতীত লুমিয়া ৯৫০ এবং ৯৫০ এক্সএল এর ডিজাইনে কার্যত কোন পরিবর্তন নেই।

প্রসেসর:  লুমিয়া ৯৫০-এ ব্যবহার করা হয়েছে হেক্সা কোর কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮০৮ প্রসেসর সাথে ৩ গিগাবাইট র‍্যাম। অপরদিকে লুমিয়া ৯৫০ এক্সএল এ আছে ৬৪ বিট অক্টাকোর কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮১০ প্রসেসর এবং লুমিয়া ৯৫০ এর মতো ৩ গিগাবাইট র‍্যাম। বেশ উচ্চক্ষমতার প্রসেসরকে ঠান্ডা রাখতে ডিভাইস দুটিতে লিকুইড কুলিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। একই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল কিছুদিন আগে বাজারে আসা মাইক্রোসফটের সারফেস ট্যাবলেটে।

মেমোরি:  এদিকে দুইটি ডিভাইসই ৩২ গিগাবাইটের একটি ভ্যারিয়েন্ট হিসেবে বাজারে এসেছে যার সাথে আছে ২০০ গিগাবাইট পর্যন্ত এক্সপান্ডেবল মাইক্রো এসডি মেমোরি কার্ড ব্যবহারের সুবিধা। সাথে ক্লাউড স্টোরেজ হিসেবে মাইক্রোসফটের ওয়ান ড্রাইভ ব্যবহারের সুযোগ থাকছে।

ক্যামেরা:  দুইটি ডিভাইসেই আছে ট্রিপল এলইডি ফ্ল্যাশ এবং পঞ্চম প্রজন্মের ওআইএস সহ ২০ মেগাপিক্সেল প্রাইমারি ক্যামেরা যার মাধ্যমে অল্প আলোতে নিখুত ছবি তোলা সম্ভব। এছাড়া আছে ৫ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ফেসিং ক্যামেরা এবং একটি ফিজিক্যাল ক্যামেরা বাটন।

সফটওয়্যার:  ডিভাইস দুটিতে মাইক্রোসফটের সবথেকে চমৎকৃত অংশ সম্ভবত এর অপারেটিং সিস্টেম। প্রথমবারের মতো মাইক্রোসফট তাদের স্মার্টফোনে ব্যবহার করেছে সর্বশেষ অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ ১০। উইন্ডোজ ১০ তৈরির মাধ্যমে মাইক্রোসফট চেয়েছিল স্মার্টফোন, ট্যাব এবং পিসিতে একই ওপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারের সুযোগ রাখা, স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে মাইক্রোসফট যার বাস্তবায়ন করল ডিভাইস দুটির মাধ্যমে।

ডিভাইস দুটিতে ব্যবহৃত উইন্ডোজ ১০ এর নতুন নতুন ফিচারগুলো সহজেই ব্যাবহারকারীদের নজর কাড়বে। এর মধ্যে অন্যতম দারুণ একটি ফিচার হলো ‘কন্টিনাম’, যার মাধ্যমে স্মার্টফোন দুটিকে মনিটরের সাথে সংযুক্ত করে কম্পিউটার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। আর ডিভাইসটির সাথে কীবোর্ড এবং মাউস সংযুক্ত করা যাবে মাইক্রোসফটের অপশনাল অ্যাকসেসরিজ ‘মাইক্রোসফট ডিসপ্লে ডক’ এর মাধ্যমে।

ব্যাটারি:  দীর্ঘসময় ধরে ডিভাইস দুটিকে চালু রাখতে লুমিয়া ৯৫০-এ ব্যবহার করা হয়েছে ৩০০০ এমএএইচ ব্যাটারি এবং লুমিয়া ৯৫০ এক্সএল এ ব্যবহার করা হয়েছে ৩৩৪০ এমএএইচ ব্যাটারি।

অন্যান্য:  এছাড়াও ডিভাইসটি অন্যান্য সুবিধার মধ্যে আরো আছে ব্লুটুথ ভি৪.১, এনএফসি, ইউএসবি টাইপ সি এবং জিপিএস। সেন্সরগুলোর মধ্যে আছে অ্যাকসেলোরোমিটার, অ্যামবিয়েন্ট লাইট সেন্সর, ব্যারোমিটার, গাইরোস্কোপ, ম্যাগনেটোমিটার এবং প্রক্সিমিটি সেন্সর।

মূল্য:  আন্তর্জাতিক বাজারে লুমিয়া ৯৫০ এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৪৯ ডলার এবং লুমিয়া ৯৫০ এক্সএল এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৪৯ ডলার।

সুত্রঃ-প্রিয় টেক ডট কম

 

ADD YOUR COMMENT