সেরা কিছু স্মার্টওয়াচ

বর্তমানে স্মার্টফোনের পাশাপাশি স্মার্টওয়াচের ব্যবহারকারীর সংখ্যাও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফ্যাশনের অনুষঙ্গ হিসেবেতো বটেই পাশাপাশি বিভিন্ন কাজ আরও কিছুটা সহজ করে দেয়ার ফলেই ব্যবহারকারীদের নজর কাড়তে সক্ষম হচ্ছে নতুন এই স্মার্টওয়াচ প্রযুক্তিটি। সম্প্রতি বেশ কিছু স্মার্টওয়াচ বাজারে মুক্তি পেয়েছে যেগুলোর মধ্যে স্যামসাং গিয়ার এস২, হুয়াওয়ে ওয়াচ এবং দ্বিতীয় প্রজন্মের মটো ৩৬০ স্মার্টওয়াচগুলোও রয়েছে। যাই হোক, স্মার্টফোনের রিভিউতো কম বেশি অনেকই করলাম, আজ তাই একটু না হয় বর্তমান সময়ের সেরা কিছু স্মার্টওয়াচগুলো সম্পর্কেই সংক্ষেপে রিভিউ করা যাক।

মটো ৩৬০ (২০১৫)

পূর্বের মটো ৩৬০ ডিভাইসটিকে ঘিরে যেরকম আশা ব্যক্ত করা হয়েছিল বাস্তবে সেরকম হয়নি। তাই এবছর পূর্বের ডিভাইসগুলোর ভুল ত্রুটি শুধরে এবং আরও কিছু ফিচার যোগ করে বাজারে আনা হয়েছে মটো ৩৬০ (২০১৫) স্মার্টওয়াচটি।
বর্তমানে অনেকেই স্মার্টওয়াচ ব্যবহার করাটাকে যৌক্তিক-অযৌক্তিকতার কাতারে ফেলে বিচার করছেন তবে আমি সেরকম কোন যুক্তি তর্কে যেতে চাইনা। আমার মতে আপনি যদি একটি স্মার্টওয়াচ কিনবেন বলে সঙ্কল্প করে থাকেন তবে মটো ৩৬০ (২০১৫) স্মার্টওয়াচটিকে আপনি নিশ্চিন্তে বেছে নিতে পারেন। বর্তমান সময়ের যে সকল স্মার্টওয়াচগুলো আপনি প্রযুক্তি বাজারে দেখতে পাবেন সেগুলোর মধ্যে ওভারঅল বা ওয়েল-রাউন্ডেড অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টওয়াচের বিবেচনায় এটি সবথেকে এগিয়ে থাকবে।

মটো ৩৬০ (২০১৫) – স্পেসিফিকেশন

স্ক্রিন:
১.৩৭ ইঞ্চি সার্কুলার এলসিডি স্ক্রিন যার রেজ্যুলেশন ৩৬০x৩২৫ পিক্সেল এবং রয়েছে ২৬৩ পিপিআই।
১.৫৬ ইঞ্চি সার্কুলার এলসিডি স্ক্রিন যার রেজ্যুলেশন ৩৬০x৩৩০ পিক্সেল এবং রয়েছে ২৩৩ পিপিআই।
আকার:
৪২x৪২x১১.৪ মিলিমিটার।
৪৬x৪৬x১১.৪ মিলিমিটার।
ইন্টারনাল স্টোরেজ এবং র‍্যাম: ৪ গিগাবাইট রম এবং ৫১২ মেগাবাইট র‍্যাম।
প্রসেসর: স্ন্যাপড্রাগন ৪০০, ১.২ গিগাহার্জ।
ব্যাটারি: ৩০০ মিলি অ্যাম্পিয়ার এবং ৪০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার।
মূল্য: ২২৯ ডলার থেকে ২৯৯ ডলারের মধ্যে।

আসুস জেনওয়াচ ২

আপনি যদি একটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টওয়াচ ব্যবহার করতে চান কিন্তু আপনার বাজেট কিছুটা কম হয়ে থাকে তবে আপনার জন্য আসুসের জেনওয়াচ ২ হতে পারে একটি চমৎকার পছন্দ। আসুস এর পূর্বের জেনওয়াচ এবং বর্তমানের জেনওয়াচ ২ এর মধ্যে খুব বেশি একটা পার্থক্য তৈরি করেনি, প্রতিষ্ঠানটি শুধুমাত্র ডিভাইসটিতে মূলত কাস্টমাইজেশনের উপর ফোকাস করেছে বলা চলে। স্মার্টওয়াচটিতে রয়েছে কুইক-চার্জিং সুবিধা এবং একটি ওয়াই-ফাই চিপ যার ফলে অন্যান্য স্মার্টওয়াচ থেকে এই স্মার্টওয়াচটি কিছুটা এগিয়ে থাকবে।
পারফর্মেন্সের কথা বিবেচনা করলে ডিভাইসটি প্রায় মটো ৩৬০(২০১৫) স্মার্টওয়াচটির মতই কাজ করে থাকে এবং মজার বিষয় হচ্ছে এর মূল্য মটো ৩৬০ এর চাইতে বেশ কম, প্রায় অর্ধেক।

আসুস জেনওয়াচ ২ – স্পেসিফিকেশন

স্ক্রিন:
১.৪৫ ইঞ্চি স্কয়ারইশ অ্যামোলেড স্ক্রিন যার রেজ্যুলেশন ২৮০x২৮০ পিক্সেল এবং রয়েছে ২৭৩ পিপিআই।
১.৬৩ ইঞ্চি স্কয়ারইশ অ্যামোলেড স্ক্রিন যার রেজ্যুলেশন ৩২০x৩২০ পিক্সেল এবং রয়েছে ২৭৮ পিপিআই।
আকার:
৪৫.২x৩৭.২x১০.৫ মিলিমিটার।
৪৯.৬x৪০.৭x৯.৫ মিলিমিটার।
ইন্টারনাল স্টোরেজ এবং র‍্যাম: ৪ গিগাবাইট রম এবং ৫১২ মেগাবাইট র‍্যাম।
প্রসেসর: স্ন্যাপড্রাগন ৪০০, ১.২ গিগাহার্জ।
ব্যাটারি: ৪০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার।
মূল্য: প্রায় ১৪৯ ডলার।

হুয়াওয়ে ওয়াচ

হুয়াওয়ে প্রতিষ্ঠানটি শুধু যে স্মার্টফোন তৈরিতেই সুনাম অর্জন করছে তা কিন্তু নয়, স্মার্টওয়াচের জগতেও বেশ ভালোই প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটির তৈরি হুয়াওয়ে ওয়াচের ডিজাইন আপনার প্রথমে ভালো লাগবে এবং এরপর পারফর্মেন্স আপনি ব্যবহারেই বুঝবেন। অনেক প্রতিষ্ঠানই স্মার্টওয়াচ তৈরিরে পারফর্মেন্স যুক্ত করতে পারলেও ডিজাইনে পিছিয়ে গিয়েছে তবে এখানেই হুয়াওয়ে গিয়েছে।

হুয়াওয়ে ওয়াচ: স্পেসিফিকেশন

স্ক্রিন: ১.৪ ইঞ্চি সার্কুলার অ্যামোলেড স্ক্রিন যার রেজ্যুলেশন ৪০০x৪০০ পিক্সেল এবং রয়েছে ২৮৬ পিপিআই।
আকার: ৪২ মিলিমিটার ডায়ামিটার এবং ১১.৩ মিলিমিটার ডেপথ।
ইন্টারনাল স্টোরেজ এবং র‍্যাম: ৪ গিগাবাইট রম এবং ৫১২ মেগাবাইট র‍্যাম।
প্রসেসর: স্ন্যাপড্রাগন ৪০০, ১.২ গিগাহার্জ।
ব্যাটারি: ৩০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার।
মূল্য: প্রায় ৩৪৯ ডলার।

স্যামসাং গিয়ার এস২

স্যামসাং গিয়ার এস২ স্মার্টওয়াচটি একটি চমৎকার গিয়ার এবং আপনি যদি বিভিন্ন রকম খেলাধুলা বা শরীরচর্চার সাথে যুক্ত থাকেন তবে এটি হতে পারে আপনার জন্য একটি উপযুক্ত ডিভাইস। চমৎকার বিল্ড কোয়ালিটির এই স্মার্টওয়াচটি আমার তালিকায় পিছিয়ে পরার কারণ হচ্ছে এর সফটওয়্যার। এতে ব্যবহার করা হয়েছে স্যামসাঙ্গের টাইজেন অপারেটিন সিস্টেম যার ফলে স্মার্টওয়াচটি সত্যিকার অর্থে একটি অ্যান্ড্রয়েড ওয়াচ নয় এবং অ্যান্ড্রয়েডের অপেক্ষা টাইজেনে অ্যাপলিকেশনের সংখ্যাও খুবই কম।

স্যামসাং গিয়ার এস২: স্পেসিফিকেশন

স্ক্রিন: ১.২ ইঞ্চি সার্কুলার অ্যামোলেড স্ক্রিন যার রেজ্যুলেশন ৩৬০x৩৬০ পিক্সেল এবং রয়েছে ৩০২ পিপিআই।
আকার: ৪২.৩x৪৯.৮x১১.৪ মিলিমিটার।
ইন্টারনাল স্টোরেজ এবং র‍্যাম: ৪ গিগাবাইট রম এবং ৫১২ মেগাবাইট র‍্যাম।
প্রসেসর: এক্সিনোজ ৩২৫০।
ব্যাটারি: ৩০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার।
মূল্য: প্রায় ২৪৯ ডলার।

পেব্বল টাইম স্টিল 

স্পেসিফিকেশনের দিক দিয়ে হয়ত এই স্মার্টওয়াচটি আপনাকে আকর্ষন করতে পারবে না তবে এতে রয়েছে খুবই হালকা একটি অপারেটিং সিস্টেম এবং চমৎকার প্রয়োজনীয় কিছু অ্যাপলিকেশন। তবে এটিও সত্যি, এর ফিচার এর তুলনায় মূল্য বেশ বেশি। কিন্তু অন্যান্য সব ফিচার সমৃদ্ধ স্মার্টওয়াচও অনেক পিছিয়ে যাবে যখন আপনি এই ওয়াচটির সাথে সেগুলোর ব্যাটারি লাইফের তুলনা করবেন কেননা এটি প্রায় একটানা ১০ দিন ব্যাটারি ব্যাক-আপ দিয়ে থাকে।

পেব্বল টাইম স্টিল: স্পেসিফিকেশন 

স্ক্রিন: ১.২৫ ইঞ্চি স্কয়ার স্ক্রিন যার রেজ্যুলেশন ১৪৪x১৬৮ পিক্সেল এবং রয়েছে ১৮২ পিপিআই।
আকার: ৪০.৫x৩৭.৫x১০.৫ মিলিমিটার।
ইন্টারনাল স্টোরেজ এবং র‍্যাম: ১৬ মেগাবাইট রম এবং ৬৪ কিলোবাইট।
প্রসেসর: কর্টেক্স এম৪, ১টি কোর, ১০০ মেগাহার্জ।
মূল্য: প্রায় ২৯৯ ডলার।

 

 

ADD YOUR COMMENT