হ্যান্ডস-অন-রিভিউ: Walton Primo D6 – স্বল্পমূল্যে অধিক ফিচার

Posted by

স্বল্পমূল্যে অধিক ফিচার সংবলিত স্মার্টফোন আনার ক্ষেত্রে বেশ অগ্রগণ্য দেশীয় স্মার্টফোন বাজারজাতকরণ প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন সম্প্রতি বাজারে এনেছে প্রিমো ডি সিরিজের নতুন স্মার্টফোন Primo D6; এন্ট্রি লেভেলের এই ফোনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো কোয়াডকোর প্রসেসর ও ইউনিফাইড স্টোরেজ সুবিধা। এছাড়া মাত্র ৩,৮৫০ টাকা মূল্যের এই ফোনে রয়েছে ৪ ইঞ্চি ডিসপ্লে, ২ মেগাপিক্সেলের রিয়ার ক্যামেরা, OTA সুবিধা, ১,৫৫০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি প্রভৃতি।

ওয়ালটনের এন্ট্রি লেভেলের স্মার্টফোন Primo D6 এর ডিজাইন, ব্যাটারি ব্যাকআপ, গেমিং পারফরম্যান্স, বেঞ্চমার্ক স্কোর, ক্যামেরা পারফরম্যান্স প্রভৃতি বিশ্লেষণধর্মী তথ্য নিয়ে প্রিয়টেকের এবারের আয়োজন Walton Primo D6 এর এক্সক্লুসিভ হ্যান্ডস অন রিভিউ। প্রিয় পাঠক, চলুন তাহলে একনজরে Primo D6 এর উল্লেখযোগ্য ফিচারসমূহ দেখে নেওয়া যাক –

  • অ্যান্ড্রয়েড ৪.৪.২ কিটক্যাট অপারেটিং সিস্টেম
  • ৪ ইঞ্চির আইপিএস ডিসপ্লে
  • ১.২ গিগাহার্জ গতির কোয়াডকোর প্রসেসর
  • ৫১২ মেগাবাইট র‍্যাম
  • মালি ৪০০ জিপিউ
  • ২ মেগাপিক্সেল রিয়ার ক্যামেরা
  • ভিজিএ ফ্রন্ট ক্যামেরা
  • ৪ গিগাবাইট ইন্টারনাল মেমোরী
  • ডুয়েল সিম
  • ১,৫৫০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারী

এবারে তাহলে বিস্তারিত রিভিউয়ের দিকে যাওয়া যাক-

আনবক্সিং: Primo D6 স্মার্টফোনটির বক্সে যা যা রয়েছে –

  • হ্যান্ডসেট
  • ব্যাটারী
  • চার্জার অ্যাডাপ্টার
  • ডাটা ক্যাবল
  • ইয়ারফোন
  • ইউজার ম্যানুয়াল
  • ওয়ারেন্টি কার্ড

অপারেটিং সিস্টেম: Primo D6 ফোনটিতে অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে অ্যান্ড্রয়েড ৪.৪.২ কিটক্যাট ব্যবহার করা হয়েছে, তবে এতে OTA আপডেট থাকায় ভবিষ্যতে আরও আপডেট পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে ওয়ালটন।

বিল্ড কোয়ালিটি ও ডিজাইন: প্রিমো D6 স্মার্টফোনটি বেশ আকর্ষণীয় ডিজাইনের। এই ফোনের নিচের অংশে রয়েছে ৩.৫ মিলিমিটার অডিও পোর্ট আর উপরের অংশে ইউএসবি ২.০ পোর্ট । এছাড়া ফোনটির একপার্শ্বের অংশে রয়েছে ভলিউম কী ও পাওয়ার কী।

১২৩ মিলিমিটার উচ্চতার এই ফোনটি প্রস্থে ৬৩ মিলিমিটার আর এর পুরুত্ব ৯.৯ মিলিমিটার। বেশ হালকা গড়নের এই ফোনের ওজন মাত্র ১১০ গ্রাম (ব্যাটারিসহ) ।

এর পেছনের দিকে উপরের অংশে আছে রিয়ার ক্যামেরার লেন্স ও ফ্ল্যাশলাইট আর নিচের দিকে রয়েছে স্পীকার। এছাড়া সম্মুখভাগে ফ্রন্ট ক্যামেরা, সেন্সর, স্পীকার প্রভৃতি তো রয়েছেই।

ডিসপ্লে: এই ফোনে ৪ ইঞ্চির আইপিএস ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে, আর এর ডিসপ্লের রেজ্যুলেশন হলো ৪৮০x৮০০ পিক্সেলের।

মাল্টিমিডিয়া: Primo D6 এ রয়েছে ৩.৫ মিলিমিটারের অডিও জ্যাক। এর সাথে যে হেডফোনটি দেওয়া হয় তার সাউন্ড কোয়ালিটি মোটামুটি মানের, এর অডিও সাউন্ড কোয়ালিটিও বেশ সুন্দর।

আর এই ফোনে ১০৮০ পি ফুল এইচডি ভিডিও কোন ধরণের ল্যাগ ছাড়াই চলেছে।

গেমিং পারফরম্যান্স: স্বল্পবাজেটের এই ফোনটি সাধারণ গেমিংয়ের জন্য মন্দ নয়। কোয়াডকোর প্রসেসরসমৃদ্ধ এই ফোনে বিভিন্ন ধরণের গেম বেশ স্মুথলি খেলা যায়, তবে এর র‍্যাম মাত্র ৫১২ মেগাবাইট হওয়ায় এইচডি গেম খেলতে খানিকটা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। তবে স্বল্পর‍্যামবিশিষ্ট এই ফোনে ক্ল্যাশ অফ ক্ল্যানস, টেম্পল রান ২ প্রভৃতি জনপ্রিয় গেম কোন ধরণের ল্যাগিং ছাড়াই খেলা গেছে।

কানেক্টিভিটি: এই ফোনে ব্লুটুথ ৪.০, ওয়াইফাই, ওয়্যারলেস হটস্পট প্রভৃতি কানেক্টিভিটি সুবিধা রয়েছে। এছাড়া জিপিএস নেভিগেশন সুবিধাতো রয়েছেই।

 

সিম: ওয়ালটনের অধিকাংশ স্মার্টফোনের ন্যায় Primo D6 এ-ও রয়েছে ২টি সিম ব্যবহারের সুবিধা। আর হ্যাঁ, এর উভয় সিমেই কিন্তু থ্রিজি সুবিধা উপভোগ করা যায়।

 

ব্যাটারি: ৪ ইঞ্চি আইপিএস ডিসপ্লে সংবলিত Primo D6 এ ১,৫৫০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারী ব্যবহার করা হয়েছে। এর ব্যাটারী ব্যাকআপ বেশ ভালোই। একবার ফুল চার্জ দিলে টানা ৫-৫.৫ ঘন্টা ইন্টারনেট ব্রাউজ করা যায়। এছাড়া একবার ফুল চার্জে টানা প্রায় ৫ ঘন্টা এইচডি ভিডিও উপভোগ করা যায়।

সেন্সর: ওয়ালটনের নতুন এই ফোনে সেন্সর হিসেবে অ্যাক্সিলেরোমিটার ও প্রক্সিমিটি সেন্সর ব্যবহৃত হয়েছে।   বেঞ্চমার্ক: কোন ডিভাইসের সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য সাধারণত বেঞ্চমার্ক স্কোর যাচাই করা হয়ে থাকে। Primo D6 এর বেঞ্চমার্ক স্কোর যাচাইয়ের জন্য বেঞ্চমার্ক যাচাইয়ের জনপ্রিয় অ্যাপ AnTuTu বেছে নেওয়া হয়েছিলো। AnTuTu তে এর স্কোর এসেছে ১৯,০২০; এন্ট্রি লেভেলের ফোনে যা অনেকটাই অবিশ্বাস্য ! বেঞ্চমার্ক যাচাইয়ের আরেক অ্যাপ Nenamark এ Primo D6 এর স্কোর এসেছে ৬০.১

OTA আপডেট সুবিধা: এই ফোনে OTA বা Over The Air আপডেট সুবিধা রয়েছে, যার ফলে পিসির সাথে সংযুক্ত করা ছাড়াই এর সফটওয়্যার আপডেট করা যাবে।

মূল্য: ক্রেতাদের সাধ্যের কথা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় নানা ফিচারসংবলিত Primo D6 স্মার্টফোনটির মূল্য মাত্র ৩,৮৫০ টাকা নির্ধারণ করেছে ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ।

 

Primo D6 এর ভালো লাগার দিকসমূহ:

  • ইউনিফাইড স্টোরেজ
  • স্বল্পমূল্য
  • Over The Air আপডেট সুবিধা

 

 

Primo D6 এর সীমাবদ্ধতা: স্বল্পমূল্যের ও এন্ট্রি লেভেলের এই ফোনে উল্লেখযোগ্য কোন সীমাবদ্ধতা চোখে পড়েনি।

 

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: যারা স্বল্পমূল্যে প্রয়োজনীয় নানা ফিচার সংবলিত স্মার্টফোন কিনতে চাইলে Walton Primo D6 থাকতে পারে পছন্দের তালিকায়। ভবিষ্যতে আরও উন্নত কনফিগারেশনের স্মার্টফোন এমন সুলভমূল্যে বাজারে আনবে ওয়ালটন – এমনটাই প্রত্যাশা।

প্রিয় পাঠক, আজ তাহলে এ পর্যন্তই। Primo D6 সম্পর্কে আপনাদের মূল্যবান প্রশ্ন কিংবা মন্তব্য লিখুন কমেন্টে। নতুন কোন স্মার্টফোনের হ্যান্ডস-অন রিভিউ নিয়ে আবারও দেখা হবে আপনাদের সাথে। সবাই ভালো থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *