Walton Primo H4 এর হ্যান্ডস-অন রিভিউ

Posted by

দেশীয় প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন কিছুদিন আগে বাজারে এনেছে প্রিমো এইচ সিরিজের নতুন স্মার্টফোনPrimo H4; চমৎকার ডিজাইনের কারণে এই ফোনটি প্রথম দেখাতেই নজর কাড়তে সক্ষম। এছাড়া এই ফোনে অ্যান্ড্রয়েড ৫.১ ললিপপ অপারেটিং সিস্টেম, ওটিজি সাপোর্ট, ফ্রন্ট ক্যামেরায় ফ্ল্যাশসহ অন্যান্য ফিচারো বিদ্যমান।
Primo H4 এর বিল্ড কোয়ালিটি, ডিজাইন, ব্যাটারি ব্যাকআপ, গেমিং পারফরম্যান্স, বেঞ্চমার্ক স্কোর, ক্যামেরা পারফরম্যান্স প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আজকের আয়োজন Walton Primo H4 এর Hands-on Review

hhhthhhh

রিভিউয়ের শুরুতে একনজরে Primo H4 এর উল্লেখযোগ্য ফিচারসমূহ দেখে নিন-

  • অ্যান্ড্রয়েড ৫.১ ললিপপ
  • ৫ ইঞ্চির আইপিএস ডিসপ্লে
  • ১.৩ গিগাহার্টজ গতির কোয়াডকোর প্রসেসর
  • ১ গিগাবাইটের র‍্যাম
  • মালি ৪০০ জিপিউ
  • ৮ মেগাপিক্সেলের রিয়ার ক্যামেরা
  • ২ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা
  • ৮ গিগাবাইটের ইন্টারনাল মেমোরী
  • ডুয়েল সিম
  • ২,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি 

Primo H4 এর আনবক্সিং:
Primo H4 কিনলে আপনি এর সাথে যা যা পাচ্ছেন-

  • চার্জার অ্যাডাপ্টার
  • ডাটা ক্যাবল
  • ইয়ারফোন
  • ইউজার ম্যানুয়াল
  • ওয়ারেন্টি কার্ড

বিল্ড কোয়ালিটি ও ডিজাইনঃ
Primo H4 দেখলে এর বডি অনেকটাই মেটালিক মনে হবে, এর একপার্শ্বের অংশে রয়েছে ভলিউম কী আর অন্যপার্শ্বে পাওয়ার কী, এর উপরের অংশে রয়েছে ৩.৫ মিলিমিটার অডিও পোর্ট ও ইউএসবি ২.০ পোর্ট।

Primo H4 স্মার্টফোনটির পেছনের দিকে উপরের অংশে আছে রিয়ার ক্যামেরার লেন্স ও ফ্ল্যাশলাইট আর নিচের দিকে রয়েছে স্পীকার। এছাড়া সম্মুখভাগে ফ্রন্ট ক্যামেরা, ফ্ল্যাশ, সেন্সর, স্পীকার প্রভৃতি তো রয়েছেই।

১৪৩ মিলিমিটার উচ্চতার এই ফোনটি প্রস্থে ৭১ মিলিমিটার আর এর পুরুত্ব ৮ মিলিমিটার। ব্যাটারিসহ এর ওজন ১৩৬ গ্রাম।

ডিসপ্লে ও ইউজার ইন্টারফেস:
এই ফোনে ৫ ইঞ্চির আইপিএস ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে, আর এর ডিসপ্লের রেজ্যুলেশন হলো ১২৮০x৭২০ পিক্সেলের।চলুন, এবারে অ্যান্ড্রয়েড ৫.১ ললিপপ চালিত এই ফোনের ইউজার ইন্টারফেস দেখে নেওয়া যাক-
নোটিফিকেশন বার:

অপারেটিং সিস্টেমঃ
Primo H4 ফোনটিতে অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে অ্যান্ড্রয়েডের আপডেটেড সংস্করণ অ্যান্ড্রয়েড ৫.১ ললিপপ ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া এতে OTA আপডেট থাকায় পরবর্তীতে ব্যবহারকারীরা আরও আপডেট পাবেন।

সিপিউ, চিপসেট ও জিপিউ:
এন্ট্রি লেভেলের স্মার্টফোন Walton Primo H4 এ মিডিয়াটেকের MT6580 চিপসেট ব্যবহৃত হয়েছে।

ওয়ালটন তাদের এই ফোনে মালি-৪০০ জিপিউ ব্যবহার করেছে। মূল্য বিবেচনায় এই ফোনের গ্রাফিক্স কোয়ালিটি কিংবা গেমিং পারফরম্যান্স মন্দ নয়।

মেমোরী:
Primo H4 স্মার্টফোনটিতে ৮ গিগাবাইট ইন্টারনাল মেমোরী দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪.৭ গিগাবাইট ব্যবহারযোগ্য। এই ফোনের মেমোরীর একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো এতে রয়েছে ইউনিফাইড স্টোরেজ সুবিধা,তাই এর পুরো ইন্টারনাল মেমোরীই অ্যাপ ইন্সটলের জন্য ব্যবহার করা যাবে। ফলে যারা প্রচুর অ্যাপ ইন্সটল করতে ভালোবাসেন তাদের জন্য এই ফোন হতে পারে বেশ পছন্দের।

এই ফোনে থাকা ১ গিগাবাইটের র‍্যামের মধ্যে প্রায় ৯৬৮ মেগাবাইট ব্যবহারযোগ্য।

মাল্টিমিডিয়া:
Primo H4 এ রয়েছে ৩.৫ মিলিমিটারের অডিও জ্যাক। এর সাথে যে হেডফোনটি দেওয়া হয় তার সাউন্ড কোয়ালিটি মোটামুটি মানের, এর অডিও সাউন্ড কোয়ালিটিকে বেশ ভালো বলা যায়। আর এই ফোনে আইপিএস ডিসপ্লে ব্যবহৃত হওয়ায় এতে দারুণভাবে ভিডিও উপভোগ করা যায়। এই ফোনে ১০৮০ পি ফুল এইচডি ভিডিও কোন ধরণের ল্যাগ ছাড়াই চলে।

গেমিং পারফরম্যান্স:
এন্ট্রি লেভেলের এই ফোনটি সাধারণ গেমিংয়ের জন্য মন্দ নয়। কোয়াডকোর প্রসেসর ও ১ গিগাবাইট র‍্যামবিশিষ্ট এই ফোনে বিভিন্ন ধরণের গেম বেশ স্মুথলি খেলা যায়। এই ফোনে হালের জনপ্রিয় বিভিন্ন গেম যেমন – ফিফা ১৬, ক্ল্যাশ অফ ক্ল্যানস, কিংডম রাশ, টেম্পল রান ওজেড প্রভৃতি কোন ধরণের ল্যাগিং ছাড়াই খেলা গেছে।

ক্যামেরা:
Primo H4 স্মার্টফোনটিতে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের রিয়ার ক্যামেরা। নয়েজবিহীন ছবি তোলা নিশ্চিত করতে এর ক্যামেরায় CMOS সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া ক্যামেরায় অটোফোকাস, এলইডি ফ্ল্যাশ প্রভৃতি সুবিধাতো থাকছেই।
Primo H4 এর ক্যামেরা ইন্টারফেস –

কানেক্টিভিটি:
এই ফোনে ব্লুটুথ ৪.০, ওয়াইফাই, ওয়্যারলেস হটস্পট প্রভৃতি কানেক্টিভিটি সুবিধা রয়েছে। এর পাশাপাশি আছে জিপিএস নেভিগেশন সুবিধা। আর ওয়ালটনের অধিকাংশ স্মার্টফোনের ন্যায় Primo H4 এ-ও রয়েছে ২টি সিম ব্যবহারের সুবিধা। এর একটি সিম স্লট মাইক্রো-সিম সাপোর্টেড আর অন্যটি মিনি সিম সাপোর্টেড, এছাড়া এর উভয় সিমেই থ্রিজি সুবিধা উপভোগ করা যায়।

ব্যাটারি:
৫ ইঞ্চি আইপিএস ডিসপ্লে সংবলিত Primo H4 এ ২,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। এর ব্যাটারী ব্যাকআপ মোটামুটি, একবার ফুল চার্জ দিলে টানা ৪.৫ ঘন্টা থেকে ৫ ঘন্টা ইন্টারনেট ব্রাউজ করা যায়। এছাড়া একবার ফুল চার্জে টানা প্রায় ৫ ঘন্টা এইচডি ভিডিও উপভোগ করা যায়।

বেঞ্চমার্ক:
কোন ডিভাইসের সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য সাধারণত বেঞ্চমার্ক স্কোর যাচাই করা হয়ে থাকে। Primo H4 এর বেঞ্চমার্ক স্কোর যাচাইয়ের জন্য বেঞ্চমার্ক যাচাইয়ের জনপ্রিয় অ্যাপ AnTuTu বেছে নেওয়া হয়েছিলো। AnTuTu তে এর স্কোর এসেছে ১৯,৯৯৯; এন্ট্রি লেভেলের ফোনে যা উল্লেখ করার মতো।

AnTuTu স্কোরের দিক থেকে Xiaomi Mi2, Asus Zenfone 5 প্রভৃতির পর Primo H4 এর অবস্থান।

বেঞ্চমার্ক যাচাইয়ের আরেক অ্যাপ Nenamark এ Primo H4 এর স্কোর এসেছে ৫৬

Primo H4 এর ভালো লাগার দিকসমূহ:

  • ললিপপ অপারেটিং সিস্টেম
  • আকর্ষণীয় ডিজাইন
  • ইউনিফাইড স্টোরেজ সুবিধা
  • ফ্রন্ট ক্যামেরায় ফ্ল্যাশ
  • ওটিজি সাপোর্ট

Primo H4 এর সীমাবদ্ধতা:
এন্ট্রি লেভেলের স্মার্টফোন Primo H4 এ MTK6580 চিপসেট ও অপেক্ষাকৃত দুর্বল মালি-৪০০ জিপিউ এর ব্যবহার ব্যতীত তেমন কোন উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধতা চোখে পড়েনি। তবে এর মূল্য কিছুটা কম হলে ভালো হতো।

স্পেশাল ফিচার:
স্পেশাল ফিচার হিসেবে এই ফোনটিতে রয়েছে স্মার্ট স্লাইড, নোটিফিকেশন লাইট প্রভৃতি দারুণ সব ফিচার, আর ইউনিফাইড স্টোরেজ সুবিধার কথা তো ইতোঃপূর্বে বলেছিই! এছাড়া এই ফোনে OTG এবং OTA সুবিধা রয়েছে।

মূল্য:
আকর্ষণীয় ডিজাইন ও চমৎকার সব ফিচারসংবলিত Primo H4 স্মার্টফোনটির মূল্য ৮,৭৯০ টাকা নির্ধারণ করেছে ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত:
যারা স্বল্পমূল্যে প্রয়োজনীয় নানা ফিচার সংবলিত স্মার্টফোন কিনতে চান সেই সাথে চান আকর্ষণীয় ডিজাইন তাদের জন্য ওয়ালটনের Primo H4 হতে পারে আদর্শ পছন্দ। বিশেষ করে ফ্রন্ট ক্যামেরায় ফ্ল্যাশ থাকায় Primo H4 সেলফিপ্রেমীদের নিকট বেশ জনপ্রিয়তা পেতে পারে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *